স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৭১ জন মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের মুনিরা ভবনে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। চাঁদপুর জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে সদর ও হাইমচর উপজেলার ৫৫৫ জন। অনুষ্ঠানে ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মচর্চায়ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকতে হবে।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। লেখাপড়ার জন্য চাঁদপুরকে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা ছাড়া উচ্চশিক্ষার প্রায় সব সুযোগ চাঁদপুরে রয়েছে।
তিনি বলেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ, হাইমচর কলেজসহ জেলার সব কলেজের শিক্ষার মান এক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে সরকার ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ করেছে। ইতোমধ্যে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে আটটি সেশনের শিক্ষার্থী বের হয়েছেন।
এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, শিক্ষার্থীরা দেশ পরিবর্তনে অংশ নেবে এবং সুন্দর চাঁদপুর বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে। আগামীতে বিসিএস ও ডাক্তার চাঁদপুরেই হবে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সুযোগ তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে সরকারের কাজগুলো দৃশ্যমান হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। মাদকের বিষয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে ছবি ও ভিডিও পাঠানো যেতে পারে।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ভূমিদখলদারদের চাঁদপুরে জায়গা হবে না।
তিনি জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৫০ জন গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ করা যাবে না। সুন্দর চাঁদপুর বিনির্মাণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মশারির নিচে ঘুমানোর পাশাপাশি বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বালু কাটা বা ভরাট করা যাবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, গাছ লাগানোর ছবি পাঠাতে হবে। ছবিগুলো সংরক্ষণ করে আর্কাইভে রাখা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের দিকে। নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করতে পারলে শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে।
তিনি বলেন, ক্লাসের কোনো বিকল্প হয় না। প্রাইভেট পড়ার অজুহাতে ক্লাস বর্জন করা যাবে না। মোবাইল ফোন শিক্ষার কাজে প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে জীবন পিছিয়ে পড়বে। এসব থেকে বিরত থাকলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নিজের আগ্রহ ও প্রচেষ্টাই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, একজন শিক্ষক স্বপ্নদ্রষ্টা। শিক্ষকদের মেধাশূন্য হলে চলবে না। প্রত্যেক শিক্ষককে স্মার্ট শিক্ষক হতে হবে। শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে ক্লাস নিলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। শিক্ষকদের আন্তরিকতায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করবে।
চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ, চান্দ্রা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এটিএম মোস্তফা, লেডি প্রতিমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা ইসলাম এবং হাইমচর বাজাপ্তি রমণী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান।
কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন জোছনা আক্তার মমতাজ, রতন কুমার বাইন ও রাশেদুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জান্নাতুল মাইশা, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফাহিম আফরান খান, চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেহজাবিন ইসলাম, চাঁদপুর ড্যাফোডিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাজবীর হান্নান, নীলকমল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফারিহা এবং হাইমচর চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহজাবিন ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম মাহিন এবং গীতা পাঠ করেন অপরাজিতা।
আলোচনা সভা শেষে সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৭১ জন মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

