ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : ফরিদগঞ্জে মাদক সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় ১২ বছরের এক শিশুকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, একটি নির্জন মসজিদের ছাদে আটকে রেখে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশেষ অভিযান চালিয়ে আবদুল খালেক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবদুল খালেক উপজেলার দক্ষিণ পাড়াগাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে বাজার থেকে ফুচকা খেয়ে একা বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। পথে একটি মাদকচক্রের সদস্যরা তাকে পেছন থেকে ধরে মুখ চেপে ধরে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি নির্জন মসজিদের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারধরের পর শিশুটির ওপর গুরুতর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
একপর্যায়ে শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে কান্নাকাটি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. বাবুল মিয়া অভিযোগ করেন, তার ছেলে এলাকায় কয়েকজনকে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখে ফেলেছিল। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তার ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, শিশুটি এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত। তাদের কারণে চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, শিশুটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

