চাঁদপুর সদর আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ

চাঁদপুর সদর আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ

উপজেলা সংবাদ চাঁদপুর সদর

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চাঁদপুর সফর উপলক্ষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো আয়োজন সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদপুর সদর থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে তিনি বলেন, কোরবানির পশুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। হাট ইজারাদার, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় পুলিশ একা কার্যকর সমাধান দিতে পারবে না। সমাজের সচেতন নাগরিক, অভিভাবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঈদের পর কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এমপি মানিক বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটির সদস্যরা সন্ধ্যার পর নিজ নিজ এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তিনি আরও বলেন, একসময় এলাকার মুরব্বিরা সক্রিয় থাকায় তরুণদের মধ্যে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর ছিল। সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রথমে কয়েকটি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সফল হলে তা বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি কিশোরদের বিরুদ্ধে শুধু মামলা না দিয়ে কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতাদের শনাক্ত করারও আহ্বান জানান।

সভায় বক্তব্য দেন মো. ফয়েজ আহমেদ, চাঁদপুর সদর উপজেলা কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি, নৌ পুলিশ প্রতিনিধি, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম পাঠান, ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, মানিকুর রহমান মানিক, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সচিব এম এ কুদ্দুস রোকন এবং শাওন পাটোয়ারী প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি সদস্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *