স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান।
বুধবার (২৪ জুন) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুর এবং অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি)-এর সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিতকরণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করণীয় ও আমাদের প্রত্যাশা” শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক চাঁদপুরের সভাপতি মো. আলমগীর পাটওয়ারী।
সভায় ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, গত দুই বছর ধরে স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় ওষুধ সরবরাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। ওষুধের ঘাটতি কিছুটা কমলেও রোগীদের চাহিদার তুলনায় তা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
তিনি জানান, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে ২৩টি চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৩৫০ জন রোগী রাখা সম্ভব হলেও প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন, ফলে সেবাদান কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের তুলনায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং প্রতিদিন নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে একজন রোগীর সঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যক স্বজন আসায় হাসপাতালের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা অনেক সময় ব্যাহত হয়।
রোগীদের খাদ্যমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিত বাজেটের কারণে খাবারের গুণগত মান রোগীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নত করা কঠিন। তবুও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ডা. মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জনবল সংকট নিরসন জরুরি।
তিনি সনাক ও এসিজি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা বা অনিয়ম নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। সনাক ও এসিজির পক্ষ থেকে উত্থাপিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সনাকের সভাপতি মো. আলমগীর পাটওয়ারী বলেন, সনাক ও এসিজির পক্ষ থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সমস্যার ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।
তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের সেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আন্তরিকতার সঙ্গে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলমগীর পাটওয়ারী আরও বলেন, সনাক ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মূল লক্ষ্য হলো সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে জনসেবার মান বৃদ্ধি করা।
টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফ আহমেদ চৌধুরী, সনাকের সাবেক সভাপতি ও সদস্য ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক সদস্য মো. খোরশেদ আলম পাটওয়ারী কাঞ্চন।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসিবুল আহসান, এসিজি সদস্য আয়েশা আক্তার রুপা, সুমি আক্তার, মো. আল আমিন হোসাইন, তানভীর আহমেদ, সুলতানা আক্তারসহ অন্যান্য সদস্য এবং ইয়েস সদস্যরা।
মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের সেবাদাতাদের সময়ানুবর্তিতা, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিতকরণ, দৈনিক ওষুধ সরবরাহ তালিকার আধুনিকায়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ, হাসপাতালের ওয়েব পোর্টাল উন্নয়ন, রোগীসেবায় আন্তরিকতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ওষুধের ঘাটতি, হুইলচেয়ার ও ট্রলির স্বল্পতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় প্রতিরোধ, তথ্যপ্রাপ্তি সহজীকরণ, খাদ্যের মান উন্নয়ন, সিটিজেন চার্টার হালনাগাদ এবং তথ্যের উন্মুক্ত প্রকাশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

