স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দশদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, কেক কাটা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভ উদ্বোধন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। আনন্দধ্বনি সংগীত শিক্ষায়তনের শিল্পীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরে কবিদের কবিতা পাঠ, আবৃত্তিশিল্পীদের পরিবেশনা এবং কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি মানুষের পাশে থেকে সৃজনশীল চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। সাহিত্যচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য তিনি একাডেমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেখকদের অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে কেন্দ্র ও প্রান্তের ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। লেখকদের উচিত নিজ নিজ এলাকার মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও বাস্তবতা সাহিত্যে তুলে ধরা। এ ধরনের সৃজনশীল কাজই বৃহত্তর সমাজকে সমৃদ্ধ করে এবং প্রান্তিক জনপদের সাহিত্যকেও জাতীয় পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. তপন কুমার বাগচী, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদুজ্জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাহিত্য একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কাজী শাহাদাতসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যরা।
স্বাগত বক্তব্য দেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। এর আগে কবিতা পাঠ পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখক ও সংগঠক ইলিয়াস ফারুকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক।
সমাপনী পর্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয় এবং সাহিত্য ও আবৃত্তি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ অংশ পরিচালনা করেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য) আশিফ বিন রহিম।
চার দশকের সাহিত্যচর্চার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠান কবি, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

