মতলব প্রতিনিধি : মতলব পৌর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেবা দিতে গিয়ে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নামজারি, নথিপত্র পরিদর্শনসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, কাজ শেষে কেউ স্বেচ্ছায় বকশিশ দিলে সেটিই গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে মতলব পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন খোরশেদ আলম। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসে আগত অধিকাংশ সেবাপ্রার্থীকে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবর্তে তার কাছেই পাঠানো হয়। এরপর বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আলাদাভাবে কথা বলে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিশেষ করে নামজারি (মিউটেশন) সংক্রান্ত কাজে প্রতিটি আবেদনকারীর কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এছাড়া রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত জমির নথিপত্র দেখানোর ক্ষেত্রেও ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ছাড়া প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এভাবে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় করেন বলে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এক সপ্তাহ আগে নামজারির একটি কাজের জন্য একজন ব্যক্তির কাছ থেকে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে ১১ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনা এক সাংবাদিকের নজরে আসে। সে সময় এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহায়ক খোরশেদ আলম বলেন, “মানুষের কাজ করে দিলে কেউ কেউ খুশি হয়ে কিছু বকশিশ দেন। আমি সেটিই গ্রহণ করি।”
এ বিষয়ে মতলব পৌর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা-পয়সা না নিতে আমি তাকে বহুবার নিষেধ করেছি।”
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।

