শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু : ফরিদগঞ্জের ডাকাতিয়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ রিং জাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুরে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে তা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয় দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ-এ গত ১৭ মে “প্রশাসনের নাকের ডগায় বেড়েছে রিং জালের দৌরাত্ম্য” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই ফরিদগঞ্জ পৌরসভা অংশের ডাকাতিয়া নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০টি অবৈধ রিং জাল (রি-চাই) এবং প্রায় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জালগুলো প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসাধু জেলেদের একটি চক্র ডাকাতিয়া নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছিল। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার অভিযোগ জানালেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে প্রশাসনের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জলাশয়ের পরিবেশ ও দেশীয় মাছের উৎপাদন রক্ষায় অবৈধ রিং জাল ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একদিনের অভিযানের পাশাপাশি ধারাবাহিক নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসবে এবং জলজ সম্পদ সংরক্ষণ সহজ হবে।

