আনিছ আহমেদ রাসেল : সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে আগস্ট মাসজুড়ে চাঁদপুরে অভিযান চালিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এ সময়ে ১১২০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এসব মামলায় ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের ৩৪১টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে করা মামলাগুলোর মধ্যে বাসের বিরুদ্ধে ১০টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৩৭টি, পিকআপের বিরুদ্ধে ৫০টি এবং কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে করা হয়েছে ৭টি মামলা।
এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ৩১৩টি, ইজিবাইকের বিরুদ্ধে ১৪৮টি এবং ভ্যান ও রিকশার বিরুদ্ধে ২০৫টি মামলা করা হয়েছে। মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে ৩টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩২৮টি মামলা হয়েছে।
জব্দ করা যানবাহনের বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে মোট ৩৪১টি যানবাহন। এর মধ্যে আগস্ট মাসের অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ১২২টি। আর অভিযানের আগ থেকেই ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে ছিল আরও ২১৯টি জব্দকৃত যানবাহন।
ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান-রিকশা ও ইজিবাইকের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা হয়েছে।
লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত অনিয়ম, অতিরিক্ত গতি এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এসব মামলা করা হয়েছে।
চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। এর মধ্যে নতুন বাজার-পুরাণ বাজার ব্রিজের গোড়া, শপথ চত্তর, বাসস্ট্যান্ড, ওয়ারলেস ও বাবুরহাটসহ ব্যস্ত সড়ক রয়েছে।
একই সঙ্গে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে এসব কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।
চাঁদপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই-এডমিন) প্রবীর কুমার দাশ বলেন, সড়কে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিদিন চেকপোস্ট, মোবাইল টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমানোই মূল লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে নামানো, হেলমেট ছাড়া চলাচল কিংবা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবীর কুমার দাশ আরও বলেন, জরিমানা আদায় ট্রাফিক পুলিশের মূল উদ্দেশ্য নয়। মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চালক ও পথচারী সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

