মো: মহিউদ্দিন : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামের একটি বসতঘর থেকে ১৯ বছর বয়সী এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত রিমন মরহুম আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, বাবা মারা যাওয়ার পর রিমন পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। বড় ভাই সৌদি আরবে কর্মরত থাকায় তিনি মায়ের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন। তবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পর পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্রায় দেড় বছর আগে তার মা ফাতেমা অন্যত্র বিয়ে করলে রিমন একাই ওই বাড়িতে বসবাস করতেন।
নিহতের মা ফাতেমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছেলের আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে তিনি নতুন করে সংসার শুরু করেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতেও ছেলের খোঁজ নিয়েছিলেন। রোববার সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর পান।
রিমনের চাচা এমরান হোসেন লিটন জানান, রোববার ভোরে স্থানীয় কয়েকজন হাঁটতে বের হয়ে রিমনের ঘর থেকে দুর্গন্ধ পান। ঘরের দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তারা আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মাদকাসক্তির বিষয়টি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

