ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও পথচারী

ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও পথচারী

উপজেলা সংবাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্লাইড

মো: মহিউদ্দিন : চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনের খোলা স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে এলাকাটি কার্যত একটি অস্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হোটেল ও দোকানপাটেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়লার স্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১৯ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণির ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। তবে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কার্যকর ড্রেনেজ, সুপেয় পানির সরবরাহ, স্ট্রিট লাইটিং ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় ঘাটতি রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার অভাবে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। অপরিষ্কার ড্রেন থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির বংশবিস্তারও বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াবাহী মশার প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত ৫ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও বর্তমানে পরিত্যক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনের খোলা জায়গাটি এখন নিয়মিত ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। এর পাশেই রয়েছে কে আর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিভিন্ন বিপণিবিতান ও খাবারের হোটেল। সড়কের বিপরীত পাশে অবস্থিত ইসলামিয়া হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল হাসপাতাল। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে শত শত যানবাহন ও অসংখ্য মানুষ চলাচল করলেও দুর্গন্ধের কারণে অনেক পথচারীকেই নাক চেপে পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী আবুল কালাম, টুটুল পাটওয়ারী ও কে আর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মাছুম তালুকদার বলেন, “ময়লার স্তূপ থেকে মশা-মাছি ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও খাবারের দোকানে ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, মহাসড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের পাশে ময়লার ভাগাড় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, কয়েক বছর ধরে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত জায়গা খোঁজা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণের পর স্থানীয়দের আপত্তির কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পৌরসভার অন্যান্য সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *