মো: মনির হোসেন : চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট ও ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি ভবন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও সেখানেই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাদের সিলিং থেকে প্লাস্টার খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক আহত হননি।
বিদ্যালয়টিতে মোট ৩৬২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র চারটি। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকট মোকাবিলায় বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে ক্লাস নিতে আমাদের নিজেরও ভয় লাগে। যেকোনো সময় সিলিং ভেঙে পড়তে পারে।”
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের পর থেকে নতুন ভবন নির্মাণ বা অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে ১০ থেকে ১২ বার আবেদন করা হলেও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ ১৪/৫/২০০২৬ তারিখে পুনরায় আবেদন করা হয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ ও শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধির জন্য।
২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের পেছনে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিদ্যালয়টি রাস্তার পাশে অবস্থিত হওয়ায় বাউন্ডারি না থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও চলাচলের সময় বাড়তি ঝুঁকিতে থাকে।
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, যানবাহন চলাচলকারী রাস্তার পাশে খোলা অবস্থায় বিদ্যালয় থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বেগ থাকে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে দ্বিধায় ভুগছেন। স্থানীয়রা দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা আশা করছেন, শিক্ষা অধিদপ্তর এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

