প্রশাসনের নাকের ডগায় ডাকাতিয়ায় রিং জালের দৌরাত্ম্য
শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা এলাকায় প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে রিং জালের ব্যবহার। প্রতিদিন নদীর বিভিন্ন অংশে অবাধে চলছে এই জাল দিয়ে মাছ শিকার। ফলে নির্বিচারে ধরা পড়ছে মাছের পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ, যা নদীর জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত রিং জাল নদীতে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারেন্ট জাল দিয়েও মাছ ধরা অব্যাহত রয়েছে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা মাছও ধরা পড়ছে, যা মাছের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছু অসাধু জেলে দ্রুত আর্থিক লাভের আশায় নিষিদ্ধ ও পরিবেশবিধ্বংসী রিং জাল ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে ফরিদগঞ্জ মৎস্য অফিস থেকে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যেই প্রকাশ্যে এসব জাল ব্যবহারের ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, রিং জাল বন্ধে কার্যকর কোনো অভিযান দৃশ্যমান নয়।
নদীপাড়ের কয়েকজন জেলে জানান, কয়েক বছর আগেও ডাকাতিয়া নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত রিং জাল ব্যবহারের কারণে এখন মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। টেংরা, শিং, কৈ, পুঁটি ও বোয়াল মাছের মতো দেশীয় প্রজাতি আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্লভ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় জেলে শীতল দাস বলেন, “রিং জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে নদীতে মাছ বাড়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মাছের সংকট আরও তীব্র হবে।”
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, ডাকাতিয়া নদীর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত সংখ্যক অভিযানের তথ্য তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

