স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৩নং দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত অবনতির কারণে চরম দুর্ভোগে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, যেখানে বৃষ্টি হলেই বাধ্য হয়ে ক্লাস নিতে হয় বিদ্যালয়ের বারান্দায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশের সিলিং ভেঙে গিয়ে ভেতরে পানি পড়ছে এবং ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য কোনো আলাদা অফিস কক্ষ নেই। ফলে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষকেই অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমিত জায়গায় সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মনিকা রানী বিশ্বাস জানান, ভবনের সিলিং ভেঙে পড়া ও ফাটলের কারণে শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে। ফলে বৃষ্টির সময় বাধ্য হয়ে বারান্দায় ক্লাস নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে সিলিং খসে পড়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাশেই ১৯৯৪ সালে নির্মিত একটি পুরোনো ভবন রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে পিডিবি-২ এর আওতায় একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটিও বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট তিনটি শ্রেণিকক্ষ থাকায় পাঠদানে চরম অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠও ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশের একটি খালি জায়গা থাকলেও তা ভরাট না হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো ভবনটি বর্তমানে “মদিনা ডেকোরেটর” নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালামাল রেখে দখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা দ্রুত জরাজীর্ণ ভবন পুনঃনির্মাণ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

