নিজস্ব প্রতিনিধি : রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের সাহিত্যকর্ম ও জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাঁদপুরে সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি হাসান হাফিজ বলেছেন, দেশের সাহিত্যাঙ্গনে ফররুখ আহমদের অবদান অসামান্য হলেও তিনি এখনও প্রাপ্য মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত।
শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডে অবস্থিত প্যাপিরাস পাঠাগারের কার্যালয়ে এ সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠাগারের সভাপতি এবং বাঁশি উৎসবের রূপকার অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পাঠাগারের প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসান হাফিজ বলেন, ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকর্মের গুরুত্ব ও ব্যাপ্তির তুলনায় তিনি যথেষ্ট স্বীকৃতি পাননি। প্যাপিরাস পাঠাগারের মতো একটি সংগঠন তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জেনে তিনি আশাবাদী হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের বরেণ্য সাহিত্যিক ও মনীষীদের স্মরণে নিয়মিত সাহিত্য আড্ডার আয়োজন মানুষের মধ্যে সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ‘ফররুখ আহমদের জীবন ও সাহিত্য’ বিষয়ে আলোচনা করেন জলছবির সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ, বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান, সাংবাদিক ও সমাজসেবক আশিক খান, চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির সহ-সভাপতি শিউলী মজুমদার, নিয়ন্ত্রণ পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল্লা কাহাফ, দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাঈদ হোসেন অপু চৌধুরী, আবৃত্তিশিল্পী আমির হোসেন বাপ্পি, পাঠাগারের উপদেষ্টা দিলীপ ঘোষ, উপ-সভাপতি ফেরারী প্রিন্স, ভাসানী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘের কর্ণধার সাইফুল ইসলাম রাজিব, সাংবাদিক জামাল আখন্দ, সাহিত্যানুরাগী মেহেদী হাসান, তানিয়া আক্তার এবং ঝর্না আক্তার।
আলোচনা পর্বে বক্তারা ফররুখ আহমদের সাহিত্যকর্ম, চিন্তাধারা ও সমাজবোধ নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকপাত করেন। তাঁরা বলেন, তাঁর কবিতা শুধু সাহিত্যিক সৌন্দর্যেই সমৃদ্ধ নয়, বরং সমাজকে আলোকিত ও প্রগতিশীল চিন্তার পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ফররুখ আহমদ তাঁর কবিতার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান সময়ের নানা সামাজিক বাস্তবতায় তাঁর সাহিত্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। একইসঙ্গে দেশবরেণ্য কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
আলোচনা সভার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন শ্রাবন্তী মজুমদার। কবিতা আবৃত্তি করেন প্রাপ্তি ও অপ্তি। প্রাণবন্ত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের জন্য চা-চক্রের আয়োজন করা হয়।

