ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি, মারধর এবং তার স্বামীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার (৩১ মে ২০২৬) দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোসা. সুমি আক্তার (৩৫)। তিনি দাবি করেন, আগের দিন শনিবার (৩০ মে) উপজেলার ভাটিয়ালপুর গ্রামে তাদের পরিবারের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে সুমি আক্তার বলেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘটনার দিন সকালে তার স্বামী মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী খাদেমুল ইসলাম শেখ ও মোহাম্মদ হোসেন শেখসহ কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার স্বামীর ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, স্বামীর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা উদ্ধার হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং পরে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণে তারা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
সুমি আক্তার বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে আমাদের মনে হচ্ছে আমরা হয়তো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয়।”
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর স্বামী মো. জাকির হোসেন, তাদের শিশু কন্যা জুই এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল আমিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বা অভিযোগ দায়ের করা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ভুক্তভোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

