মাহমুদুর রহমান, ঢাকা থেকে : ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) উচ্চশিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ সাভারের বিরুলিয়ায় ‘ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি’-তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির।
কর্মশালায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য (পূর্ণকালীন) অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান, পরিচালক (অ্যাক্রেডিটেশন এবং কিউএ ও এনকিউএফ) অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল এবং ডিন (একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স) ও আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল।
অ্যাক্রেডিটেশন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, মানদণ্ড নির্ণায়ক, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এবং অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল নথিপত্র সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে কর্মশালায় আলোচনা হয়। এতে বিএসির বিশিষ্ট প্রতিনিধি ও ডিআইইউর ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ডিন, সহযোগী ডিন, বিভাগীয় প্রধান, সহযোগী প্রধান, শিক্ষক এবং ‘প্রোগ্রাম সেলফ-অ্যাসেসমেন্ট কমিটি’র (PSAC) সদস্যরা অংশ নেন।
জ্ঞান-বিনিময় পর্বে বিএসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে ডিআইইউর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাক্রেডিটেশনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, একাডেমিক কার্যক্রম, অর্জন ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন। অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য সুশৃঙ্খল নথিকরণ অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান অ্যাক্রেডিটেশন ও বৈশ্বিক মানদণ্ড নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অ্যাক্রেডিটেশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বিএসি ও অন্যান্য অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এবং গুণগত মানোন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অ্যাক্রেডিটেশন-সংক্রান্ত পরিবর্তনশীল ও নতুন শর্তাবলির সঙ্গে ডিআইইউকে যথাযথভাবে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
কর্মশালার পর বিএসির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও অনুষদ সদস্যদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। সেখানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ পর্বে স্বীকৃতিসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
আয়োজকদের মতে, কর্মশালাটি ডিআইইউর প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ সংস্কৃতি এবং অ্যাক্রেডিটেশনের প্রস্তুতি শক্তিশালী করার চলমান কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএসির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভাগগুলোকে অ্যাক্রেডিটেশনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা পেতে সহায়তা করবে।
একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রমাণভিত্তিক নথিপত্র সংরক্ষণ ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রেও এ কর্মশালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি উচ্চশিক্ষায় গুণগত মান, জবাবদিহিতা ও ধারাবাহিক উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

