নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির ২২তম সভায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের নামে ১৫ শতাংশ জমি নামজারির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিকল্প হিসেবে বাবুরহাট শিশু পরিবারে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দের বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতির প্রয়োগ এবং সহায়ক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা বিকাশে অভিভাবক, শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের উন্নতি ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির দাতা সদস্য ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইসমাইল তপাদার কাঞ্চন, জেলা সমাজসেবা অফিসারের প্রতিনিধি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্যসচিব প্রতিমা রানী ভৌমিক, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম খান এবং অভিভাবক প্রতিনিধি মো. তাজুল ইসলাম মজুমদার।
সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে একাধিক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

