স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার পাশাপাশি ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতেও ভূমিসেবা সহজীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রণি। তিনি বলেন, ভূমিসেবা আরও হয়রানিমুক্ত ও দ্রুততর করতে চলমান উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
রোববার (২৪ মে ২০২৬) চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সনাক ও এসিজির অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি মোঃ আলমগীর পাটওয়ারী।
সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রণি বলেন, ভূমিসেবা প্রদান করতে গিয়ে যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হচ্ছে, সেগুলো সনাক ও এসিজির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, নামজারি সেবাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত করতে চাঁদপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিস ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। বর্তমানে গড়ে ১০ দিনের মধ্যেই নামজারি সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা জেলার মধ্যে অন্যতম দ্রুততম সেবা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি নামজারির যথাযথ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করায় ভবিষ্যতে মিসকেস রিভিউয়ের প্রয়োজনীয়তাও কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভূমি অফিসে দালাল বা তৃতীয় পক্ষের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা মাধ্যমের মাধ্যমে সেবা নিতে গেলে প্রতারণার ঝুঁকি থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভূমিসেবা সংক্রান্ত সব তথ্য ও সিটিজেন চার্টার অফিসে হালনাগাদভাবে টানানো রয়েছে, ফলে তথ্য ঘাটতির সুযোগ নেই।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি মোঃ আলমগীর পাটওয়ারী বলেন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস সেবাকে অনেকটাই হয়রানিমুক্ত করতে সক্ষম হলেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতেও একই মানের সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান ভূমি প্রশাসনের আন্তরিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সেবাগ্রহীতাদেরও সচেতন হতে হবে। দ্রুত সেবা পাওয়ার আশায় অনেকে ভুল পথে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন। ভূমি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সেবা সহজীকরণে এসিজির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সনাকের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত বলেন, পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভূমি খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সনাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ভবিষ্যতে চিহ্নিত সমস্যাগুলোকে আরও প্রমাণভিত্তিকভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ মাসুদ রানা সভা সঞ্চালনা করেন এবং কমিউনিটি অ্যাকশন মিটিং থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
এ সময় আলোচনায় অংশ নেন সনাকের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার, সনাক সদস্য মোঃ খোরশেদ আলম পাটওয়ারী, এসিজি (ভূমি)-এর সমন্বয়ক উজ্জ্বল হোসাইন, সহ-সমন্বয়ক অভিজিৎ রায়, সদস্য সাইফুল ইসলাম আকাশ, মোঃ বাদশা ভূঁইয়া, শাহ আমানত উল্লাহ ও খোদেজা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা। সভায় ইয়েস দলনেতা জান্নাতুল ফেরদৌস, উম্মে হাবিবা এবং টিআইবির কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

