মতলব উত্তরে সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

মতলব উত্তরে সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

উপজেলা সংবাদ প্রধান সংবাদ মতলব উত্তর উপজেলা

মতলব উত্তরে সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

মতলব উত্তরে সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগমতলব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা সমবায় অফিসার মুহাম্মদ ফারুক আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সমবায়ীদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সমবায়ী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় ও প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে মুহাম্মদ ফারুক আলমের বিরুদ্ধে। ওই সময় তাকে হাতিয়া উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে বদলি করা হয়। জেলা সমবায় কার্যালয়ের স্মারক এবং সে সময়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে আসে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি পুনরায় মতলব উত্তর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর মোহনপুর সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর সমবায় অধিদপ্তর থেকে তাকে চাঁদপুর সদর উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই বদলি স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে “উন্নয়ন জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প” বাস্তবায়নে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিতরণ করা ঋণের বড় অংশই আদায়যোগ্য নয় এবং অনেক সুবিধাভোগীর প্রকৃত অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হলেও দীর্ঘ সময়েও তার কোনো কিস্তি আদায় হয়নি। সংশ্লিষ্ট আদায় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে।

সিভিডিপি প্রকল্পের আওতায় গ্রামকর্মীদের সম্মানীর টাকা কেটে রাখার অভিযোগও রয়েছে উপজেলা সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে। কয়েকজন গ্রামকর্মীর ভাষ্য, প্রতি মাসে সম্মানী দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হতো। এছাড়া কাগজে-কলমে ভুয়া গ্রামকর্মীর নাম দেখিয়ে সম্মানীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।

একজন নারী গ্রামকর্মী অভিযোগ করেন, তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিরক্ত করা হতো এবং রাতের বেলায় মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানো হতো। এমনকি চাঁদপুরে একটি হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সমিতিগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রেজিস্ট্রেশন বাতিলের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এখলাছপুর আলোকিত সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং ছেংগারচর পৌর বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর নেতৃবৃন্দ তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছেংগারচর পৌর বণিক সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে। সমিতির একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই উপজেলায় দায়িত্ব পালনের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে ভয় পান। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সমবায় অফিসার মুহাম্মদ ফারুক আলম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *