নির্মাণের এক মাসেই ঝুঁকিতে ২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত  ফরিদগঞ্জের কেরোয়া-মিরপুর সড়ক

নির্মাণের এক মাসেই ঝুঁকিতে ২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত  ফরিদগঞ্জের কেরোয়া-মিরপুর সড়ক

উপজেলা সংবাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্লাইড

স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া ব্রিজ থেকে মিরপুর ব্রিজ পর্যন্ত সদ্য নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নির্মাণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৭২ হাজার ৯২৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কটির নির্মাণমান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মতলব ট্রেডিং–আর কে এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। সম্প্রতি কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

 

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কের উভয় পাশের মাটি ধসে নিচের দিকে সরে গেছে। এর ফলে রাস্তার কিনারাজুড়ে ফাঁপা অংশ ও বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভারী যানবাহনের চাপ কিংবা টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের অংশবিশেষ ধসে পড়তে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সামছুল আলম রিপন ও আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত মাটি সংরক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় মাটি সরে গিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, কাজের গুণগত মান নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তারা বলেন, জনগণের সুবিধার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তাদের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়া উদ্বেগজনক। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পুরো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত সংস্কার, টেকসইভাবে মাটি ভরাট এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি কাজের মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান এলাকাবাসী।

 

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, কাজটি সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, কেরোয়া ব্রিজ থেকে মিরপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর অংশ। স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত প্রকৌশলগত মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *