ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বিদেশি সংস্থার অনুদান ও খাদ্য সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার পরিবারগুলোর দাবি, সহায়তা পাওয়ার আশায় তারা নিজেদের সঞ্চয়, এমনকি ধারদেনা করেও টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো অনুদান না পাওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো একটি চক্র নিজেদের বিদেশি সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করতে শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, প্রতিটি পরিবারের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্যাকেজ দেওয়া হবে।
প্রতিশ্রুত খাদ্যসামগ্রীর তালিকায় ছিল ২ দশমিক ৫ কেজি গরুর মাংস, ৫ কেজি ব্রয়লার মুরগি, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ২ দশমিক ৫ কেজি করে চিনি, আটা, মসুর ডাল, মুগ ডাল, বুটের ডাল ও আতপ চাল।
তবে এসব সহায়তা পাওয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিটি নামের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। অনেককে একাধিক নাম অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করা হয়। ফলে কেউ ১০টি, কেউ ২০টি, আবার কেউ শতাধিক নামের তালিকা দিয়ে লাখ লাখ টাকা জমা দেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার মাসুম (৩৩), ইয়াছিন মোস্তফা পায়েল (২৬) এবং নারায়ণগঞ্জের পলি বেগম (৪৯)।
সরেজমিন অনুসন্ধানে অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মো. আজাদ ৬০টি নামের বিপরীতে দিয়েছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। খুকি বেগমের দাবি, তিনি ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। এছাড়া পারভীন ও আসমা আক্তার পৃথকভাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। হানিফ হাওলাদার, ফাতেমা বেগম, আমেনা বেগম, আনোয়ারা বেগম, হিরা আক্তার ও তাসলিমা আক্তারসহ আরও অনেকে কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত হারিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারকরা মূলত দরিদ্র পরিবারের নারীদের টার্গেট করে বিদেশি সহায়তা ও সরকারি অনুমোদনের কথা বলে আস্থা অর্জন করত। পরে তালিকা তৈরির নামে অর্থ সংগ্রহ করে এলাকা ত্যাগ করে।
এক ভুক্তভোগী বলেন, “সহায়তা পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি, সবই ছিল প্রতারণা।”
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানা-র অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

