কচুয়া প্রতিনিধি : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পলাতক স্বামী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর শুক্রবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রংপুরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কচুয়া থানায় আনা হচ্ছে। রবিবার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।
ওসি আরও জানান, একই মামলায় অভিযুক্ত শাহীন আক্তারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর আগে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৮ বছর আগে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই বছর ধরে আলমগীর তার চাচাতো ভাই প্রবাসী হুমায়ুনের স্ত্রী শাহীন আক্তারের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলমগীর মরিয়ম আক্তারকে নির্মমভাবে মারধর করেন। গুরুতর আহত হয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সাচারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই আলমগীর হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কচুয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

