মো: মহসীন মিয়া / আবুল কালাম আজাদ : চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে তিনটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে উপজেলার ৪ নম্বর নীলকমল ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদ আহমেদ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের মধ্য চারভাঙা গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে মো. আশরাফুল আলম (বেঙ্গল) সরকার (৩৮)-কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকার দাদান মিয়া মোল্লার ছেলে কুদ্দুস আলী (৩২) এবং সরকারকান্দি গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. আক্কাস ফকির (৪৫)-কে এক মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে নদী থেকে সরাসরি বালু উত্তোলনের সময় তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবৈধ ড্রেজার মেশিনও জব্দ করা হয়। পরে তাদের হাইমচর উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়।
জব্দ করা ড্রেজারগুলো বর্তমানে নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও গ্রাম পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার করে নদী ও চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। তারা এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক এবং তিনটি অবৈধ ড্রেজার জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেঘনা নদী ও চরাঞ্চলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নদী ও কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

