শাহরাস্তি প্রতিনিধি : শাহরাস্তি উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে পার্থ চন্দ্র দাস (৮) নামে এক স্কুলশিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বড় বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এক বছরের ব্যবধানে পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েছেন শিশুটির বাবা-মা।
নিহত পার্থ স্থানীয় সূচীপাড়া পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্র। সে ব্রিকফিল্ড শ্রমিক পংকজ দাসের বড় ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে ঘরের আঙিনায় প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বাইরে গেলে পার্থর পায়ে একটি বিষধর সাপ ছোবল দেয়। প্রথমদিকে শিশুটি সেটিকে ব্যাঙ ভেবে পরিবারের সদস্যদের জানালে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন সাপের দংশনের বিষয়টি বুঝতে পারেন।
পরে দ্রুত তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাপের কামড় শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠান। তবে কুমিল্লায় নেওয়ার পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পানিতে ডুবে মারা যায় পার্থর ছোট ভাই। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দুই সন্তান হারিয়ে পংকজ দাস ও তার স্ত্রীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
পার্থর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোকন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, পার্থ অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বর্ষা মৌসুমে ডাকাতিয়া নদী ও এর আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। বিশেষ করে বানের পানির সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত সাপ লোকালয়ে চলে আসে। ফলে প্রতি বছরই সাপের কামড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার জরুরি প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম না থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন শাহরাস্তি মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়েছে এবং এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।
এ বিষয়ে সাবেক শাহরাস্তি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দুলাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, বর্ষা মৌসুমে সবাইকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো প্রাণীর কামড়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

