স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের স্থবির কার্যক্রম পুনরায় সচল করা, সম্পদ সংরক্ষণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালুর লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (২ জুন) বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের পরিচালনা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। সভা পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা।
সভায় জেলা প্রশাসক ফাউন্ডেশনের সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জমি দখলমুক্তকরণ, প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আলোচনায় জানানো হয়, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সঞ্চিত রয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর পৌর এলাকায় ফাউন্ডেশনের ১৬ শতক জমি রয়েছে। এসব সম্পদ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি চালুর বিষয়ে সদস্যরা ইতিবাচক মতামত দেন।
সভায় ফাউন্ডেশনের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সামাজিক অবদান তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জমির রেকর্ড সংশোধন, সীমানা নির্ধারণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফাউন্ডেশনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআর থেকে প্রাপ্ত মুনাফা শিক্ষাবৃত্তি খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী এবং চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও চাঁদপুর পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি, সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপক মো. মেহেদী হাসান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু, সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজিব চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার দিতী সাহাসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
ফাউন্ডেশনের সম্পদ সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং শিক্ষাবৃত্তিমূলক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে সক্রিয় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

