তিন দফা জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় তোফায়েল আহমেদ

তিন দফা জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় তোফায়েল আহমেদ

আন্তর্জাতিক সংবাদ উপজেলা সংবাদ কচুয়া উপজেলা চাঁদপুর সদর জাতীয় সংবাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা মতলব উত্তর উপজেলা মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাহরাস্তি উপজেলা স্লাইড হাইমচর উপজেলা হাজীগঞ্জ উপজেলা

সংবাদ ডেস্ক : ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ–কে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাবা আজাহার আলী, মা ফাতেমা খানম এবং স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ ভোলা সদর উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হলে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার আগে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কোড়ালিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে, যেখানে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ভোলা সদর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানাজায় অংশ নেন স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ।

পরিবারের পক্ষ থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, রাজনীতির বাইরেও তিনি ছিলেন জনবান্ধব ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকা এবং ভোলার উন্নয়নে অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তারা আরও বলেন, তার মৃত্যু ভোলাবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। শেষ বিদায়ে কবরের মাটিতে একমুঠো দিতে পারাকে তারা সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধিকবার বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *