সান ডিয়েগোর মসজিদে হামলা : প্রাণ দিয়ে বহু মুসল্লিকে রক্ষা করলেন নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ
সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ। ১৮ মে সকালে সংঘটিত ওই হামলায় বহু শিশুসহ অসংখ্য মুসল্লির প্রাণহানি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরে হামলাকারী দুই কিশোর আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সান ডিয়েগো কাউন্টির বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’-তে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন আমিন আবদুল্লাহ। হামলায় নিহত তিনজনের একজন তিনি। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বড় ধরনের রক্তপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমিন আবদুল্লাহর সাহসিকতা অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “তাঁর কাজ নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ।”
আমিনকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণা করেছেন তাঁর সাবেক সহকর্মী কাশিফ উল হুদা। আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক লেখায় তিনি জানান, আমিন সব সময়ই অন্যদের নিরাপত্তা ও স্বস্তিকে গুরুত্ব দিতেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাই ছিল তাঁর স্বভাব।
কাশিফের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে বাবার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে দীর্ঘদিন পর আমিনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ইসলামিক সেন্টারের প্রবেশপথে ভারী অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখেন তাঁকে। প্রায় দুই দশক পর সেই সাক্ষাৎই ছিল তাঁদের শেষ দেখা।
কাশিফ জানান, একসময় তাঁরা একটি ডেন্টাল অফিসে একসঙ্গে কাজ করতেন। পেশাগত দক্ষতার চেয়ে মানুষের সঙ্গে আন্তরিক আচরণের জন্যই আমিন সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরা পেশাজীবীদের প্রতি তাঁর আলাদা আগ্রহ ছিল এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নও তিনি লালন করতেন।
পরবর্তীতে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন আমিন। আর দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তাঁকে প্রাণ দিতে হলো।
লেখাটিতে কাশিফ আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ ও সহিংসতার প্রবণতা বাড়তে দেখেছেন তিনি। আগে যেসব মসজিদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সীমিত, এখন সেখানে সশস্ত্র প্রহরী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন একজন আফ্রিকান-আমেরিকান মায়ের সন্তান। সহকর্মীদের মতে, তিনি যেমন নিজেকে একজন গর্বিত আমেরিকান মনে করতেন, তেমনি ইসলামী মূল্যবোধেও ছিলেন অটল। তাঁর নামের অর্থ ‘বিশ্বস্ত’—আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই পরিচয়েরই প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি।

