শাহরাস্তি প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়। সম্প্রতি শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, মাত্র ১২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনাটি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নরহ পশ্চিম পাড়া (সর্দার বাড়ি) এলাকায়। অভিযুক্ত নাসির উদ্দীন (৬০) ওই এলাকার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কল্পনা আক্তার (১২) স্থানীয় পীর শাহ শরীফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে নূরে আলমের তিন মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কৌশলে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতির আশঙ্কা দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, সে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা নূরে আলম বলেন, তার মেয়ে এখনো শৈশব পেরোয়নি। একই বাড়ির একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, তা কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর বিচার দাবি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলেন, শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস বা সামাজিক সালিশ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় একটাই দাবি—অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

