আজকের সমাবেশ ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে — ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক
রেজাউল করিম নয়ন : আজকের সমাবেশ ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের বিজয়ের এক বছর পূর্তিতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় মিছিল ও জনসভা একটি বিশাল জনসমাগমে রূপ নেয়।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে হাজীগঞ্জ পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে হাজীগঞ্জ
বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পথজুড়ে হাজারো নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের প্রধান সমন্বয়ক লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
ইঞ্জি. মমিনুল হকরে বক্তব্য
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জি. মমিনুল হক বলেন, “আজকের এই জনসমাবেশ সর্বকালের স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।
এই বিজয় শুধু একটি রাজনৈতিক মুহূর্ত নয়, বরং শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের প্রতীক।” তিনি বলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে সেই সব শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রায় দেড় যুগ ধরে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের নাম ব্যবহার করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেছিল। তবে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মুখে তারা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।”
তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন সুসংগঠিতভাবে দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
ইঞ্জি. মমিনুল হক বলেন, “আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আজাদ সরকারসহ অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন, অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা তাদের ত্যাগ ভুলিনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে।
“ঘুম, খুন আর মামলা হামলার মাধ্যমে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল,” বলেন তিনি।
তার ভাষ্য, সেই অবস্থা থেকে দেশ এখন মুক্ত, এবং জনগণের রায়ে একটি প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ইঞ্জি. মমিনুল হক বলেন,
“দলের নাম-পরিচয় দিয়ে কেউ যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, তাতে কিছু ভুল মানুষ থাকতেই পারে, কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতেই হবে।”
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আগামীর বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে এবং সেই লক্ষ্যে বিএনপি জনগণের পাশে থাকবে।
উক্ত বিজয় মিছিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. এ রহিম পাটওয়ারী।
পৌর বিএনপির প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েক হাজার তৃণমূল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন,
যারা স্লোগান, ব্যানার, পোস্টার এবং দলীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে প্রাণ সঞ্চার করেন।

