ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ‘কথিত মামা’র রহস্যজনক গা-ঢাকা

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ‘কথিত মামা’র রহস্যজনক গা-ঢাকা

উপজেলা সংবাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্লাইড

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ‘কথিত মামা’র রহস্যজনক গা-ঢাকা

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ‘কথিত মামা’র রহস্যজনক গা-ঢাকাস্টাফ রিপোর্টার : ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে ‘কথিত মামা’র রহস্যজনক গা-ঢাকা নিয়ে এক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আত্মীয়তার ছদ্মাবরণে চলছিল গভীর সম্পর্ক, যার পরিণতিতে একসময় গৃহবধূ তার সন্তান ও বিপুল অর্থ-সম্পদসহ স্বামীর সংসার ত্যাগ করে পলায়ন করেন ওই কথিত আত্মীয়ের সঙ্গে।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের নদোনা গ্রামের আমির বাড়িতে। অভিযোগ উঠেছে,

দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে প্রবাসীর স্ত্রী জায়েদা আক্তার নিশির সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসা করতেন সাইফুল ইসলাম নিশান নামের এক ব্যক্তি,

যিনি নিজেকে দূর সম্পর্কের মামা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কাতারপ্রবাসী নজরুল ইসলাম সোহাগ প্রায় ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে একই এলাকার চাচাতো বোন জায়েদা আক্তার নিশিকে বিয়ে করেন।

সংসার জীবনে তারা দুটি সন্তানের জনক-জননী হন।

সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, তবে সন্তানদের লেখাপড়ার অজুহাতে নিশি পরে চাঁদপুর শহরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন।

এই সুযোগে সাইফুল ইসলাম নিশানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ।

সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি পরকীয়ায় রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে জায়েদা আক্তার নিশি তার স্বামীকে না জানিয়ে সাইফুল ইসলাম নিশানের সঙ্গে গোপনে বিয়েও করেন।

পরবর্তীতে সোহাগের পরিবার জানতে পারে, সাইফুল ইসলাম নিশান হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কাতারে অবস্থানরত নজরুল ইসলাম সোহাগকে তাদের বিয়ের কাবিননামা ও

ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি পাঠিয়ে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

এ খবরে হতবাক সোহাগের বাবা মো. মফিজুল ইসলাম দ্রুত চাঁদপুরে গিয়ে দেখেন, ভাড়া বাসাটি তালাবদ্ধ এবং নিশি অনুপস্থিত।

পরবর্তীতে জানা যায়, জায়েদা আক্তার নিশি ঘর থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও হয়েছেন,

যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা। ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের বক্তব্য

সোহাগের পরিবার ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম নিশান এরইমধ্যে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন এবং জায়েদা আক্তার নিশির অবস্থানও

এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সংবাদকর্মীরা অভিযুক্তের বাড়িতে গেলেও তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। নৈতিক অবক্ষয়ের এই উদাহরণ সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এনেছে।

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *