নিজস্ব প্রতিনিধি : কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কপথে চলাচলকারী বোগদাদ পরিবহনের কয়েকটি বাসে ডিজেল থেকে সিএনজি জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের দাবি, এসব বাসের কারিগরি নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় তারা ঝুঁকির মধ্যে ভ্রমণ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে এ রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাস নিয়ে অনুসন্ধানে যাত্রী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বোগদাদ পরিবহনের কয়েকটি পুরোনো বাসে জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরও সেগুলো নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে বাসগুলোর ফিটনেস, যান্ত্রিক সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের নিচে স্থাপিত গ্যাস সিলিন্ডার এবং পরিবর্তিত যন্ত্রাংশ দেখে অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছেন। তাদের মতে, এসব যানবাহন যথাযথ কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নিয়মিত যাত্রী জানান, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এসব বাসের প্রকৃত অবস্থা ও বৈধতা যাচাই করা।
একজন যাত্রী বলেন, ডিজেলচালিত বাস সিএনজিতে রূপান্তর করা হলে পরিচালন ব্যয় কমার কথা। সে ক্ষেত্রে যাত্রী ভাড়াতেও কিছুটা প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা থাকে। তবে বর্তমানে ডিজেলচালিত বাসের সমপরিমাণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কোনো ডিজেলচালিত যানবাহনকে সিএনজিতে রূপান্তর করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। তবে এ ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর অনুমোদন, কারিগরি পরিদর্শন এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট বাসগুলো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএর চাঁদপুরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো যানবাহনের জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হলে বিধি অনুযায়ী অনুমোদন এবং হালনাগাদ ফিটনেস সনদ থাকা আবশ্যক। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বোগদাদ পরিবহনের কুমিল্লা অঞ্চলের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, ঈদের পর তাদের পরিবহনের কয়েকটি বাস সিএনজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। তবে ঠিক কতটি বাস এ প্রক্রিয়ার আওতায় এসেছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি।
ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসে একই ভাড়া আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তেলচালিত পরিবহনের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক কম ভাড়া নেয়।
এদিকে যাত্রী ও সচেতন মহল কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর ফিটনেস, কারিগরি সক্ষমতা এবং জ্বালানি রূপান্তরের বৈধতা যাচাইয়ে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের জরুরি নজরদারি কামনা করেছেন। তাদের মতে, যাত্রী নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই।

