স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী পালবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসার গরু ব্যবসায়ী ও কসাই আজিজ আহম্মদের বিরুদ্ধে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য কেনা মুরগি ও মাংস চুরি এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আবুল হাসেম গাজী চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পালবাজারের জাহিদ ব্রয়লার হাউজের মালিক মো. বিল্লাল গাজীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট ওজনের ১০০টি মুরগির অর্ডার দেওয়া হলেও সরবরাহ করা হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম ওজনের মুরগি। এতে তাঁর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
আবুল হাসেম গাজী বলেন, মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য গত ৬ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার তিনি পালবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী জাহিদ ব্রয়লার হাউজের মালিক মো. বিল্লাল গাজীর কাছে ১০০টি মুরগির অর্ডার করেন। প্রতিটি মুরগির ওজন ৮৫০ থেকে ৯০০ গ্রাম দেওয়ার কথা ছিল।
তবে তাঁর অভিযোগ, ওই ওজনের পরিবর্তে ৪০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের মুরগি সরবরাহ করা হয়। এতে প্রয়োজনের তুলনায় মাংস কম পাওয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পালবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হারুন পাটোয়ারী বলেন, মুরগি ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল গাজীর সঙ্গে ক্রেতা আবুল হাসেমের কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি জানতে কয়েকজন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসার গরু ব্যবসায়ী ও কসাই আজিজ আহম্মদ, মো. রুবেল, মোজাম্মেল ও এক সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে মাংস চুরির অভিযোগ করেছেন আবুল হাসেম গাজী।
তাঁর অভিযোগ, গত ৬ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে একটি গরু ও দুটি খাসি জবাই করা হয়। চাঁদপুর কসাইখানায় জবাইয়ের পর গরুর মাংসের একটি অংশ এবং খাসির মাংসের পুরোটা নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গরুর মাংসের প্রায় ৩০ কেজি পাওয়া যায়নি।
আবুল হাসেম আরও বলেন, মো. হেলাল তাঁকে ফোন করে চাঁদপুর থেকে নিয়ে ফরিদগঞ্জে গরু ও ছাগল কিনিয়ে দেন। পরে হেলালের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে কসাই ঠিক করা হয়। খাসি ও গরুর মাংসের একটি অংশ পাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তাঁরা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ তাঁর।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর গত ২২ দিন ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মোজাম্মেল ও সিএনজি চালক জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল হাসেম গাজীর ভাষ্য, মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে তিনি রাতের মধ্যে অতিথিদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ধার-দেনা করেন। মাংসের সংকট ও সংশ্লিষ্টদের কথিত প্রতারণার কারণে তিনি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানান।
তিনি তাঁর সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ ফেরত এবং অভিযোগের বিষয়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, পালবাজারের কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়া এবং বেশি দামে মুরগি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান দাবি করেছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কসাইদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

