হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জে শহীদ আজাদ ও শাহাদাতের স্মৃতিতে স্মৃতিফলক উন্মোচন
রেজাউল করিম নয়ন : হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জে শহীদ আজাদ ও শাহাদাতের স্মৃতিতে স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হয়েছে।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জে ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে শহীদ হওয়া দুই সাহসী আন্দোলনকারীর স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মারকগুলোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলার টোরাগড় এলাকায় শহীদ আজাদ সরকারের স্মৃতিফলকটি উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জাহিদ হোসেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক, শহীদ আজাদের ছেলে আহমেদ কবির হিমেল সরকার,
স্থানীয় যুবদল নেতা মিজানসহ অনেক এলাকাবাসী। ইউএনও ইবনে আল জাহিদ হোসেন বলেন,
“আজাদের মতো সাহসী মানুষদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনুকরণীয়। তিনি কেবল একজন প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন না—একটি আদর্শের প্রতীক ছিলেন তিনি।”
আজাদের ছেলে হিমেল সরকার বলেন, “আমার বাবার আত্মত্যাগ আজ স্বীকৃতি পেয়েছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। এই স্মৃতিফলক আমাদের বাবাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।”
একই দিনে ফরিদগঞ্জ থানা মোড়ে শহীদ শাহাদাত হোসেনের স্মৃতিতে অপর একটি স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা রাজিয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহ্ আলম,
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, শহীদের মা শিরোতাজ বেগম, নানি মমতাজ বেগমসহ অসংখ্য স্থানীয় মানুষ।
সুলতানা রাজিয়া বলেন, “শহীদ শাহাদাত হোসেন এই দেশের ইতিহাসে একজন সাহসী সংগ্রামী ছিলেন।
তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা জোগায়। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার এই উদ্যোগ আমাদের নৈতিক দায়িত্বের অংশ।”
অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত সৃষ্টি হয়, যখন শহীদ শাহাদাতের মা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের পরিবারের জন্য গভীরভাবে অর্থবহ। আমার ছেলের আত্মত্যাগ যেন কেউ ভুলে না যায়, এই আমাদের কামনা।”

