শুনে শুনে পুরো কোরআন মুখস্থ করলেন কচুয়ার আশেক এলাহী

শুনে শুনে পুরো কোরআন মুখস্থ করলেন কচুয়ার আশেক এলাহী

উপজেলা সংবাদ কচুয়া উপজেলা প্রধান সংবাদ

শুনে শুনে পুরো কোরআন মুখস্থ করলেন কচুয়ার আশেক এলাহী

শুনে শুনে পুরো কোরআন মুখস্থ করলেন কচুয়ার আশেক এলাহীকচুয়া প্রতিনিধি : শুনে শুনে পুরো কোরআন মুখস্থ করলেন কচুয়ার আশেক এলাহী।

কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের আশেক এলাহী, যিনি জন্মগতভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তার জন্য কোরআন শেখার পথ কখনও সহজ ছিল না।

কিন্তু তার কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির কারণে আজ তিনি কেবল দুই বছরেই পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

এটি তাঁর জন্য আল্লাহর এক বিশাল অনুগ্রহ এবং পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়।

অল্প বয়সে কোরআন শেখার সুযোগ না পেলেও, আশেকের মধ্যে এর প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল।

পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট এবং দৃষ্টিহীনতার কারণে তাকে কখনোই কোরআন শিক্ষা নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ হয়নি।

তবে তার বাবা আলী আশ্রাফ এবং মা হোসনেয়ারা বেগমের সাহচর্য এবং উৎসাহে, দুই বছর আগে তিনি কচুয়া জামিয়া ইসলামিয়া আহমাদিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন।

সেখানেই ওস্তাদদের কাছ থেকে কুরআন শুনে শুনে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ করেন।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হিফজ ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আশেক এলাহী কুরআন প্রতিযোগিতায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন।

তার এই অর্জন তাকে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, আশেক তার চেষ্টার মাধ্যমে এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি হয়েও কোরআন মুখস্থ করার অসাধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

আশেকের বাবা আলী আশ্রাফ বলেন,

“আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল যে, আমাদের ছেলে হাফেজ হবে। তবে দারিদ্র্য এবং অন্ধত্বের কারণে সে কাজটি অনেক সময় নিয়ে সম্পন্ন করেছে।

আজ আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, আশেক তার ইচ্ছা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া।”

শিক্ষকদের বক্তব্য

মাদ্রাসার শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন,

“আশেক এলাহী এমন একজন ছাত্র, যিনি কখনো নিজের প্রতিবন্ধকতাকে বাধা হিসেবে নেননি। সে কুরআন শেখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং আজ সফল হয়েছে।

তার এই সাফল্য আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে।”

মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক হাফেজ মো. মোস্তফা আরও বলেন,

“বর্তমান সময়ে অনেক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কোরআন শিক্ষা থেকে বিরত থাকে, কিন্তু আশেক এলাহী তার ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

তার এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, যদি ইচ্ছা এবং পরিশ্রম থাকে, তাহলে কোরআন শিক্ষা সম্ভব।

তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমরা তার সাফল্য কামনা করছি।”

আশেক এলাহীর এই অসাধারণ অর্জন কেবল তার নিজের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

তার জন্য শুভকামনা রইল, যাতে তিনি আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন।

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *