শিক্ষকদের মধ্যে কমিটমেন্টের অভাব রয়েছে : জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন
মো: মনির হোসেন ॥ শিক্ষকদের মধ্যে কমিটমেন্টের অভাব রয়েছে : জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও শীতার্তদের সহযোগিতার লক্ষে একটি বিশেষ আলোচনা সভা ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত
এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঁদপুর জেলার সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চাঁদপুরে ঢাবিয়ান’।
এতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের বক্তব্য
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করাই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়, বরং স্বপ্ন দেখতে জানতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তোমাদের স্বপ্ন হতে হবে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। তবে, তা বাস্তবায়নের জন্য কাছের ল্যগুলোর দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।
শুধু বড় স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেটিকে সফল করার জন্য প্রতিদিন নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সহজ নয়। এই পথ পিচ্ছিল, কঠিন।
একবার যদি পিছলে যাও, ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে। তাই তোমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে, বাধা এলে থেমে না গিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জীবনে সাফল্য পেতে হলে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও অধ্যবসায় থাকতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে।
যারা সময়ের কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন করে, তারাই ভবিষ্যতে সফল হয়।”
জেলা প্রশাসক মাদকাসক্তির কারণ এবং তা থেকে দূরে থাকার উপায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “যখন মানুষ জীবনে তার কাঙ্তি ল্য অর্জন করতে পারে না, তখন হতাশা জন্ম নেয়। এই হতাশা থেকেই অনেক তরুণ বিপথে চলে যায়,
মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মাদক কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় ধ্বংসের কারণ।”
তিনি শিার্থীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন,”তোমাদের জীবন নিয়ে নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
জ্ঞানই একমাত্র শক্তি, যা তোমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পারে।”
শিক্ষকদের ভূমিকা
শিকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন,”বলতে দ্বিধা নেই, এখন অনেক শিকের মধ্যে কমিটমেন্টের অভাব রয়েছে।
তাঁরা নিজেদের শুধুমাত্র চাকরিজীবী মনে করেন, প্রকৃত শিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন না। অথচ, শিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,”একজন ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, একজন শীতার্তকে কম্বল দেওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন শিার্থীকে দ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
শিকরা যদি সত্যিকার দায়িত্বশীল হন, তাহলে তারাই সমাজ বদলের মূল কারিগর হতে পারেন।”
শিকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, “শুধু পাঠদানের জন্য শ্রেণিকে প্রবেশ করলেই শিক হওয়া যায় না।
শিার্থীদের জীবনগঠনের জন্য তাঁদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে, নৈতিক শিা দিতে হবে, এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরে ঢাবিয়ানের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বাহার এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সদস্য আব্দুল মতিন সরকার নিশাত।
পুলিশ সুপার আব্দুর রকিবের বক্তব্য
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, দৈনিক ঢাকার ডাক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এ বি এম শামসুল আলম হিরু,
জেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ্, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ্ আলম।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরে ঢাবিয়ান’র দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস সামি, অর্থ সম্পাদক ইউসুফ আলী খান, সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জাওহার আহাম্মেদ।
সামাজিক সংগঠন ‘সেবার আলো’-এর সভাপতি মাহিদুল ইসলাম, ইউনিএইড চাঁদপুরের পরিচালক হাফিজ আল আসাদ বাবর
এবং কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক পঙ্কজ কুমার শর্মা-ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভার পর শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষদের মাঝে এই সহায়তা বিতরণ করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।
এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক দিকনির্দেশনা, মাদকবিরোধী সচেতনতা ও শিা বিষয়ে অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে, শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের একটি অনন্য নজির স্থাপন করা হয়।
বক্তারা সকলেই শিার গুরুত্ব, স্বপ্ন দেখার মানসিকতা ও জীবনে সফল হওয়ার জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পাশাপাশি, মাদক থেকে দূরে থাকার জন্য তরুণদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এই আয়োজন শুধু একটি সভা বা বিতরণ কার্যক্রম নয়, বরং এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলনের অংশ, যা তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে অনুপ্রাণিত করবে।

