মতলব দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত ৪৮টি গ্রাম
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান : মতলব দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত ৪৮টি গ্রাম। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় এবং মুষলধারে বৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এতে প্রায় ৪৮টি গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ঘূর্ণিঝড়ে ৪৮ গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপজেলার নন্দীখোলা, নায়েরগাঁও উত্তর, সাড়পাড়, আচলছিলা, মধ্যে নওগাঁ, চরপয়ালী, কালিকাপুর, কাশিমপুর, বদরপুর, পুরাণ,
টেমাই শিবপুর, চাপাতলী, বাড়ৈগাঁও, লেকোডা, পয়ালী, মনিগাঁও, গাবুয়া, মতলব পৌরসভার নলুয়া, দুরগাঁও, দিঘলদীসহ মোট ৪৮টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ ফিরে আসেনি।
বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও তারা সঠিক তথ্য পাননি।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব দক্ষিণ উপজেলার জোনাল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ও গাছের ডাল এবং
বাঁশ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একাধিক টিম কাজ করছে এবং যেখানে কাজ সমাধান হয়েছে সেখানে বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকালের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়ে যাবে।
বৃষ্টি-ঝড়ে সড়ক বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা
অপরদিকে, মুষলধারে বৃষ্টির কারণে উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর, নায়েরগাঁও দক্ষিণ, উপাদী উত্তর, উপাদী দক্ষিণ, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন এবং মতলব পৌরসভা ও
নারায়ণপুর পৌরসভার টিআর/কাবিখার আওতায় নির্মিত কাঁচা রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে। নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
মোঃ কামরুজ্জামান মোল্লা জানিয়েছেন, গত দুদিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে নবনির্মিত ৩টি কাঁচা মাটির রাস্তা ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে।
উপাদী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি ও
ধমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় ডিঙ্গাভাঙ্গা হইতে রাজারগাঁও কাঁচা রাস্তার অর্ধেকের বেশি ভেঙে গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে চলতি অর্থবছরের টিআর, কাবিখার আওতায় নির্মিত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ২০টি নবনির্মিত ব্রিজের ৫-৭টির এপ্রোচ সড়ক ভেঙে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এই দুর্যোগে স্থানীয় জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন ও সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

