মতলব দক্ষিণে গৃহবধূ রুপালী হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন, স্বামী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার : মতলব দক্ষিণে গৃহবধূ রুপালী হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
উপজেলায় আলোচিত ফাতেমা বেগম রুপালী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নিহতের স্বামী মো. জামাল গাজীকে গ্রেফতার করেছে, যিনি এই হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুর রকিব, পিপিএম।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
পুলিশ সুপার জানান, ১১ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে রুপালী ও জামাল গাজীর পরিচয় হয়।
পরিচয়ের সময় জামাল নিজেকে চাঁদপুর কোর্টের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অফিসে সহকারী হিসেবে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন গার্মেন্টস শ্রমিক।
পরিচয়ের পর দু’জন কক্সবাজার ও সিলেট ভ্রমণে যান এবং গত বছর আগস্টে ৩ লাখ টাকা কাবিনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে এটিই ছিল না তাদের প্রথম বিয়ে। জামালের এটি তৃতীয় বিয়ে, আর রুপালীর পঞ্চম। বিয়ের পর জামাল রুপালীর বাড়িতে সংসার শুরু করলেও
খুব দ্রুত তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। পারিবারিক নানা বিষয় ও আর্থিক বিরোধ ছাড়াও একে অপরের অতীত বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১১ জুলাই রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘোড়াধারী গ্রামে জামাল পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী রুপালীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার দিনই নিহতের ছেলে টিপু পাটোয়ারী বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর থেকেই পুলিশ অভিযুক্ত জামালের সন্ধানে অভিযানে নামে। টানা ১৩ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টুয়াখালী, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায়
অভিযান চালানোর পর পুলিশ অবশেষে কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার বৃত্তিপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) খায়রুল কবির,
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ সালেহ আহমেদ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) জীবন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুলিশ সুপার মামলার সফল তদন্তে অবদান রাখায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

