মতলব উত্তরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের একদিনে তিন ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ

মতলব উত্তরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের একদিনে তিন ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ

উপজেলা সংবাদ মতলব উত্তর উপজেলা স্লাইড

মতলব উত্তরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের একদিনে তিন ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ

মতলব উত্তরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের একদিনে তিন ভেন্যুতে প্রশিক্ষণমতলব উত্তর প্রতিনিধি : মতলব উত্তরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের একদিনে তিন ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে

উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন।

২৮ জুন শনিবার, তিনি এক দিনে তিনটি পৃথক ভেন্যুতে সাব ক্লাস্টার ট্রেনিং পরিচালনা করে নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখে পড়েছেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এক দিনে কেবল একটি সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ আয়োজন ও তদারকির দায়িত্বে থাকতে পারেন।

অথচ বেলায়েত হোসেন ওই দিন তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯৫নং মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং

১০১নং সর্দারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে ট্রেনিংয়ের আয়োজন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রশিক্ষণে তিনি সময়মতো কোনো ভেন্যুতেই উপস্থিত ছিলেন না। কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন,

কর্মকর্তা না থাকলেও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তারা নিজেরাই সম্পন্ন করেন। এক প্রধান শিক্ষক বলেন,

“স্যার আসেননি, তবে প্রশিক্ষণ যথাসময়ে হয়েছে। খাবারের মানও ছিল সন্তোষজনক।”

এর আগেও ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় ও মানসম্পন্ন খেলাধুলার সামগ্রী না দিয়েও বিল উত্তোলন করা হয়, বা দেওয়া হয় নিম্নমানের সামগ্রী।

এই অভিযোগটি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।

অনেক শিক্ষক মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ‘অদৃশ্য প্রভাব’ এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক মন্তব্য করেন, “একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো

ধরনের তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে করে মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির সাহস আরও বেড়ে যায়।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বেলায়েত হোসেন বলেন, “৩০ জুনের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা থাকায় একদিনে

একাধিক ভেন্যুতে ট্রেনিং আয়োজন করতে হয়েছে। এর আগে আমি জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণে ব্যস্ত ছিলাম।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, “একই দিনে একাধিক ভেন্যুতে সাব ক্লাস্টার ট্রেনিং আয়োজনের অনুমতি নেই।

তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনটি ভেন্যুর মধ্যে একটি বৈধ রেখে বাকিগুলো বাতিল করা হবে।”

একাধিক অভিযোগে বারবার উঠে আসা একজন কর্মকর্তার নাম শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জবাবদিহির অভাবকেই সামনে নিয়ে আসে।

শুধু নীতিমালায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলেই হবে না—এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজন কঠোর তদন্ত, সঠিক প্রতিবেদন এবং কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

 

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *