বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ : কুতুবুদ্দিন আহমেদ
মাহমুদুর রহমান, ঢাকা থেকে : বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ, কুতুবুদ্দিন আহমেদ।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত শিল্প-শিক্ষায়তন বক্তৃতামালার দ্বিতীয় পর্বের
দ্বিতীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শনিবার, সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশন সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ছিলেন এনভয় লিগেসী ও শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কুতুবুদ্দিন আহমেদ।
প্রকৌশলী কুতুবুদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের
তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
তবে উদ্যোক্তাদের কিছু সমস্যার সমাধান তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তির অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন
অনেক উদ্যোক্তা নতুন কর্মপদ সৃষ্টি করলেও দক্ষ কর্মীর অভাবে তাদের বিদেশ থেকে জনবল আনতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অথচ মানসম্মত ও দক্ষ স্নাতক তৈরির উদ্যোগ দেশে এখনো সীমিত। কুতুবুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, দেশের শীর্ষ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে উঠলেও অনেকেই দক্ষতা না থাকায় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও একই পথে এগোনোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. আর. কবির। তিনি বলেন, প্রকৌশলী কুতুবুদ্দিন আহমেদের মতো সফল উদ্যোক্তাদের জীবন ও
অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের অনেক কিছু শেখার আছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য শুধু পুঁজি নয়, বরং মানসিক শক্তি ও ধৈর্যই সবচেয়ে বড় মূলধন।
ডিআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে কুতুবুদ্দিন আহমেদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাসুম ইকবাল এবং ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের প্রধান মো. কামরুজ্জামান।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৬ সালে শিল্প-শিক্ষায়তন বক্তৃতামালা শুরু করে। প্রথম পর্বে দেশি-বিদেশি ১৩ জন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা অংশ নেন, যাদের বক্তব্য পরে প্রবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় “পথিকৃৎ উদ্যোক্তাদের জীবনসংগ্রাম” শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে, যেখানে ১৯৪৭-পূর্ব সময়ে জন্ম নেওয়া দেশের ১২ জন অগ্রণী উদ্যোক্তার জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রন্থটির দ্বিতীয় খণ্ডও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সময়কালের উদ্যোক্তাদের জীবনী প্রকাশিত হবে।

