বন্ধ হলো ১০৫ বছরের পুরনো চাঁদপুর পৌরসভার দাতব্য চিকিৎসালয়
স্টাফ রিপোর্টার : বন্ধ হলো ১০৫ বছরের পুরনো চাঁদপুর পৌরসভার দাতব্য চিকিৎসালয়।
চাঁদপুরের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রতীক, ১০৫ বছরের পুরনো চাঁদপুর পৌরসভার দাতব্য চিকিৎসালয় বন্ধ হয়ে গেছে।
চিকিৎসক সংকটকে অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘ এক মাস ধরে এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ঘটনা নিয়ে এলাকার হতদরিদ্র মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পুরানবাজারের সচেতন মহল দাতব্য চিকিৎসালয় পুনরায় চালুর দাবি তুলেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজারে ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই দাতব্য চিকিৎসালয়।
ব্রিটিশ, পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটি গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদপুর পৌরসভার অর্থায়নে মাত্র ২ টাকার টিকেটে চিকিৎসা ও ঔষধ দেওয়ার মাধ্যমে এটি মানবতার বাতিঘর হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিল।
দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চাঁদপুর পৌরসভার এই উদ্যোগের প্রশংসা প্রচারিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করা হতো।
পরে অর্থসংকট ও চিকিৎসক না থাকায় শুধুমাত্র পৌরসভার দুইজন স্বাস্থ্য সহকারী রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছিল।
এইভাবে হতদরিদ্র মানুষের জন্য ছোটখাট অসুখের চিকিৎসার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল দাতব্য চিকিৎসালয়।
হঠাৎ সেপ্টেম্বর মাসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকাকে অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসালয় বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দাতব্য চিকিৎসালয়ের বারান্দায় বসে থাকা এক বৃদ্ধা করিমজান বলেন, “৫০ বছর ধরে এখানে ডাক্তার দেখাই।
কয়দিন ধরে আইয়া ফিরা যাই। ডাক্তার নাই। আমার এই বয়সে আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। এইখানটা বন্ধ হইলে আমরা কি যামু?”
স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলাল খান বলেন
“পৌরসভার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান শত বছর ধরে খেটে খাওয়া মানুষের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী চরাঞ্চলের অসহায়দের চিকিৎসার ভরসা ছিল।
মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে মানুষ এখানে স্বাস্থ্যসেবা পেত। আমরা বারবার দাবি করেছি অন্তত সপ্তাহে এক দিন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকুক,
কিন্তু তা পূরণ হয়নি। চিকিৎসক সংকটের দোহাই দিয়ে এটি বন্ধ করা হয়েছে। পৌর প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের প্রতি আহ্বান, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে এটি পুনরায় চালু করা হোক।”
সাবেক ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম নজু বেপারী বলেন, “পুরানবাজারের অনেক কলোনি এবং নদী ভাঙতি দরিদ্র এলাকা রয়েছে।
একশো বছর ধরে গরীব মানুষরা এখানে চিকিৎসা পেয়ে আসছে। কেন এটি বন্ধ করা হলো, আমরা জানি না। প্রয়োজনে টিকেটের মূল্য বাড়িয়ে হলেও দ্রুত চালু হওয়া উচিত।”
চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব ও দক্ষিণ অঞ্চল নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন এখানে এমবিবিএস ডাক্তার থাকলেও পরে স্বাস্থ্য সহকারী পরিচালনা করতো। হঠাৎ জনস্বার্থের বিপরীতে কেন বন্ধ করা হলো, আমরা বুঝতে পারছি না। এটি বন্ধ করা অন্যায় হবে।”
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, “দাতব্য চিকিৎসালয় মূলত পৌর অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছিল। চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সিভিল সার্জনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। চিকিৎসক পেলে দ্রুত পুনরায় এটি চালু করা হবে।”

