ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

উপজেলা সংবাদ প্রধান সংবাদ মতলব উত্তর উপজেলা

ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলনস্টাফ রিপোর্টার : ফারুক হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন করেছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছোট ষাটনল রঙ্গুখাঁর কান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক খানকে

হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার (২ জুলাই) বিকেলে গ্রামের জনগণের আয়োজনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে নিহত ফারুক খানের পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসী অভিযোগ করেন,

পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ২ জুন এক সালিশ বৈঠকে ফারুককে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

তাদের দাবি, দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ওইদিন বিকেলে বসানো সালিশে প্রথম স্ত্রী হ্যাপী বেগম ও তার পক্ষের কয়েকজন—যাদের মধ্যে রোকনুজ্জামান খান,

নাছির প্রধান এবং নেয়ামত উল্ল্যাও ছিলেন—মিলিতভাবে ফারুককে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন।

এমনকি ফারুকের বাবা নূর মোহাম্মদ খান বাধা দিতে গেলে তাকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

পরে ফারুককে ঘরে এনে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি নিজেও তাদের রোষানলে পড়েছি।

এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, আসামিরা প্রভাবশালী বলে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।”

মা হাসনেহারা চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, “আমার সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার চাই। ফাঁসি চাই।”

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ফারুককে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে রাত ১১টার দিকে পথে তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীদের বক্তব্য

এলাকাবাসীরা জানান, পুরো এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সালিশের নামে একজন মানুষকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, নিহতের প্রথম স্ত্রী হ্যাপী বেগম গত ২২ জুন পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেন—ফারুক আত্মহত্যা করেছেন এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার এই মামলাকে একটি “প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা” বলে আখ্যায়িত করেছে, যা মূল হত্যার ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা মাত্র।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান জানান, আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে ফারুক খানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *