ফরিদগঞ্জে মৎস্য চাষিদের ২০০ কোটি টাকা লোকসান
মো: মহিউদ্দিন : ফরিদগঞ্জে মৎস্য চাষিদের ২০০ কোটি টাকা লোকসানের ভয়াবহ খবর পাওয়া গেছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সিআইপি বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০টি চরে চলছে একসাথে ধান ও মাছ চাষ। তবে, বর্তমানে অনেক চরে এককভাবে মাছ চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা, কারণ তারা লাভের আশায় মাছ চাষকেই প্রধান অর্থনৈতিক উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু চলতি বছর বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে এসব কৃষককে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ১৫০০ কৃষকের মোট ২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চল যেমন চরগুদাড়া দক্ষিন, চরগুদাড়া উত্তর, লামা চর, বালু চর, কাতানিয়া চর, কলেজের চর, চার রাস্তার মাঝের চর, দক্ষিনের চর, খেরির চর, নোয়া চর, খেপাঘাট চর, মটকির চর, বাগাদির চর, পূর্ব চর, রানীর চর, রাজাপুরের চর, চান্দ্রার চর ইত্যাদি জায়গায় ব্যাপকভাবে মাছ চাষ হয়। এসব এলাকার মৎস্য চাষিরা জানাচ্ছেন, গত বছর বন্যার ফলে খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি ও মাছের বাজার মূল্য কমে যাওয়ায় তারা ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। এখনো তাদের ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর কোন উপায় নেই। এর ফলে তারা প্রায় সব জমি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছেন।
মৎস্য চাষিদের বক্তব্য
স্থানীয় মৎস্য চাষিরা, যেমন মোঃ আঃ রব, মোঃ নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়া, মোঃ কামাল মাল, মোহাম্মদ আলী মৃর্ধ্যা, ইসমাইল হোসেন সোহেল, কাউন্সেলর আমিন মিজি, মোঃ আবু হানিফ, মোঃ সুমন পাটওয়ারী, শাহাজাহান বুশ এবং রুনু জানাচ্ছেন যে, গত বছর বন্যার কারণে তারা বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং বর্তমানে তারা আর্থিক সংকটে ভুগছেন। তাদের দাবি, একাধিক বছর ধরে চলা এই সমস্যাগুলির কারণে তারা এখন জীবিকার তাগিদে নতুন কোন উপায় দেখতে পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, গত বছরের বন্যা, মৎস্য খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং মাছের বাজারে মন্দা পরিস্থিতি মিলিয়ে ১৫০০ কৃষক প্রায় ২০০ কোটি টাকা লোকসান করেছেন। এ এলাকার মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১৫০০ হেক্টর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তর বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাছ চাষের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এখানে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বিপুল পরিমাণ মাছ অন্যান্য অঞ্চলে রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চাষিদের ক্ষতি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা চেষ্টা করছেন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা দ্রুতই পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
ফরিদগঞ্জের মৎস্য চাষিরা বর্তমানে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও, প্রশাসন ও স্থানীয় চাষিরা আশাবাদী যে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

