ফরিদগঞ্জে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি: এক পরিবারের সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা

ফরিদগঞ্জে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি: এক পরিবারের সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা

উপজেলা সংবাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা

ফরিদগঞ্জে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি: এক পরিবারের সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা

ফরিদগঞ্জে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি: এক পরিবারের সর্বস্ব হারানোর শঙ্কাফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : ফরিদগঞ্জে ভুয়া দলিলের ব্যবহার করে জমি খারিজ ও নামজারির মাধ্যমে একটি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে

স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তায় নামজারি সম্পন্ন করার পর একটি প্রভাবশালী চক্র সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়কে পুঁজি করে তারা জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে।

যদিও এখনও জমি দখল করতে পারেনি, তবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা বাধার মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে আতঙ্কে রাখছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ নামজারি সম্পন্ন করেছিলেন তৎকালীন ফরিদগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজুন্নাহার বেগম,

যিনি বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি খারিজ বাতিলের আবেদন জমা দেওয়ার পর এ

অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, নামজারির জন্য জমা দেওয়া আটটি দলিলের সবগুলোতেই ঘষামাজার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের মৃত বসন্ত কুমার দত্তের ছেলে স্বপন চন্দ্র লোধ ও তার প্রতিবেশী আবুল হাসেম বেপারি ছিলেন বহু দিনের বন্ধু।

স্বপনের পারিবারিক নথি-পত্র থেকে জমিজমার সব খুঁটিনাটি তথ্য আবুল হাসেমের জানা ছিল।

তবে স্বপনের মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় যে, বন্ধুত্বের আড়ালে তিনি প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন।

স্বপনের ছেলে শিমুল লোধের দাবি, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির মধ্যে ৬০ শতক জমি ১/১ খতিয়ানে রয়েছে।

এ জমির মধ্যে ৫৬ শতক আবুল হাসেম ভুয়া দলিল তৈরি করে নিজের নামে নামজারি করে নেন।

তদন্তে জানা গেছে

১৯৮৮ সালের একটি দলিলে মূলত ৪৪ শতক জমি উল্লেখ থাকলেও সেটি ঘষামাজা করে ১ একর (১০০ শতক) দেখানো হয়।

একইভাবে ১৯৯৪ সালের আরেকটি দলিলে দাতা-গ্রহীতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি, বরং পৌরসভার ভাটিয়ালপুর মৌজার জমি

পরিবর্তন করে খাজুরিয়া মৌজা দেখানো হয়েছে। এছাড়া ১৯৬৮ সালের একটি দলিলও একইভাবে পরিবর্তন করে ব্যবহার করা হয়েছে।

চাঁদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমে খোঁজ নিয়ে সাংবাদিকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে দলিলগুলোতে কারসাজির প্রমাণ রয়েছে।

সরেজমিনে দত্ত পরিবারের উত্তরসূরিরা জানান, তারা বর্তমানে ভীষণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রয়াত স্বপনের স্ত্রী কাজল রানী ও সন্তানরা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা জমিতে আবাদ করতে পারছেন না। গাছ থেকে ফল তোলা, মাছ ধরা কিংবা কাঠ কাটা সবকিছুতেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। একসময়কার বন্ধু এখন তাদের সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিমুল লোধ আরও জানান, খারিজ বাতিলের শুনানিতে (২৫ আগস্ট ২০২৫) তারা দলিলের অবিকল নকল উপস্থাপন করলে ঘষামাজার বিষয়টি ধরা পড়ে। আদালত আবুল হাসেমকে মূল দলিল দাখিলের নির্দেশ দিলেও তিনি এখনো তা জমা দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে আবুল হাসেম জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, যথাসময়ে মূল দলিল ভূমি অফিসে জমা দেবেন। তার অভিযোগ, খারিজকৃত জমির একটি অংশ কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছে।

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *