পিআর পদ্ধতির কথা বলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সফল হবেন না : অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সভা শনিবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নিচতলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির (কুমিল্লা বিভাগ) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, “যদি অন্তভর্তীকালীন সরকার আগামী এক মাসের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করে, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একটি অসুস্থ রাজনৈতিক দল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচনের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, তবে দেশের জনগণ একত্রিত হয়ে জবাব দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা পিআর পদ্ধতির কথা বলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তারা কখনই সফল হবে না। বাংলাদেশে পিআর ব্যবস্থা কার্যকর নয়। নেপালে দেখেছেন, সেখানে ১৭ মাসে ১০বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের দেশে এমন হওয়া উচিত নয়। যারা জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না, তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে, তবে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হবে।”
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া আরও যোগ করেন, “নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই আমরা এগোচ্ছি। এই মাসের মধ্যেই আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রার্থী তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারেন। যারা জান্নাতের টিকেট বিতরণের মতো অপপ্রচারের চেষ্টা করেন, সেটি অন্যায়। জান্নাতের টিকেটের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমাদের দেশের মহিলা নেত্রীদের এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের শক্তিকে কেউ অবমূল্যায়ন করতে পারবে না।”
তিনি বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামোর বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঘরে ঘরে গিয়ে এই কাঠামোর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামীতে আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে দেশকে সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। আমরা আওয়ামী লীগের মতো একটি দেশ বানাবো না, বরং একটি স্বতন্ত্র এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি (কুমিল্লা বিভাগ) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হবে। নেতা তারেক রহমান সবকিছু দেখেন ও জানেন, এবং প্রার্থী নির্বাচনেও তিনি দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবেন। দলকে শক্তিশালী করতে ঐক্য অপরিহার্য।”
সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেন, “আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।”
সভায় সভাপতিত্ব ও বিভিন্ন বক্তব্য পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ: সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, অ্যাড. শামসুল ইসলাম মন্টু। বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা, কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন সম্পাদক, উপজেলা ও পৌর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
সাধারণ সভার রেজুলেশন পাঠ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম, সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন হাজী মোশাররফ হোসাইন এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন মুনির চৌধুরী। সভার শুরুতে জেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাও. জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী কোরআন থেকে তিলওয়াত ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সভাটি দলীয় ঐক্য, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে সমৃদ্ধ আলোচনা ও মনোবল বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত হয়।

