জনবল সংকটে কঠিন পরিস্থিতিতে মতলব দক্ষিণ পিআইও কার্যালয়

জনবল সংকটে কঠিন পরিস্থিতিতে মতলব দক্ষিণ পিআইও কার্যালয়

উপজেলা সংবাদ মতলব দক্ষিণ উপজেলা

জনবল সংকটে কঠিন পরিস্থিতিতে মতলব দক্ষিণ পিআইও কার্যালয়

জনবল সংকটে কঠিন পরিস্থিতিতে মতলব দক্ষিণ পিআইও কার্যালয়জাহাঙ্গীর আলম প্রধান : জনবল সংকটে কঠিন পরিস্থিতিতে মতলব দক্ষিণ পিআইও কার্যালয়। উপজেলার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংগ্রাম চলছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে।

তবে কার্যক্রমের পেছনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মারাত্মক জনবল সংকট, যা প্রকল্প পরিচালনা ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

১ জুন, রোববার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, অফিসের কাজ চালানো হচ্ছে এককভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের ওপর।

তিনিই একাই দপ্তরের অধিকাংশ দায়িত্ব বহন করছেন। যদিও তাঁর সঙ্গে এক কার্য সহকারী রয়েছেন,

তবুও তা জনবল ঘাটতির মাপকাঠিতে অনেক কম।

বিগত কয়েক বছর ধরে অফিস সহায়ক থেকে শুরু করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ পর্যন্ত বিভিন্ন পদ শূন্য রয়েছে।

অন্য উপজেলার পিআইও কার্যালয়ের তুলনায় এখানে কর্মীদের সংখ্যা খুবই কম। অথচ, চলতি অর্থবছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে

মতলব দক্ষিণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন

কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জনবল সংকটের কারণে তিনি একাই অফিস সহকারী, অফিস সহায়কসহ নানা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

অফিসের যন্ত্রপাতিও পুরনো, যার ফলে কাজের মান ও গতি ব্যাহত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকির জন্য দেওয়া মোটরসাইকেলটিও দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য নয়।

তবুও তিনি প্রতিটি কর্মসূচি মনিটরিং এবং বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য

মতলব দক্ষিণে বর্তমানে ২টি আশ্রয় কেন্দ্র, ২০টি সেতু নির্মাণ, ৪৩ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস প্রকল্প, দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি,

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চলছে। এছাড়া কম্বল, ঢেউটিন, শুকনো খাবার ও গ্রামীণ আর্থিক সহায়তা (জিআর) কর্মসূচিও

বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্প তদারকিতে পিআইও এবং কার্য সহকারীর মাঠ পরিদর্শন করলে প্রায়ই অফিস বন্ধ থাকে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমজাদ হোসেন জানান, এই জনবল সংকটের বিষয়ে গত মার্চ মাসে সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালককে স্মারক পত্র প্রদান করেছেন শূন্য পদ পূরণের জন্য।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিগগিরই পদ পূরণের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

চাঁদপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান খানও জনবল ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,

“শুধু মতলব দক্ষিণ নয়, জেলা কার্যালয়েও জনবল সংকট বিরাজ করছে। ফলে বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি আমি মহাপরিচালক মহোদয়কে অবগত করেছি এবং দ্রুত সমাধান আশা করছি।”

জনবল সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা যেন দ্রুতই দূর হয়, সে প্রত্যাশায় রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন।

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *