চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির সাহিত্য সভায় প্রাণবন্ত মিলনমেলা

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির সাহিত্য সভায় প্রাণবন্ত মিলনমেলা

উপজেলা সংবাদ প্রধান সংবাদ সদর উপজেলা

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির সাহিত্য সভায় প্রাণবন্ত মিলনমেলা

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির সাহিত্য সভায় প্রাণবন্ত মিলনমেলাস্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির সাহিত্য সভায় প্রাণবন্ত মিলনমেলা পরিনত হয়েছে।

সাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে দ্বিতীয় সাহিত্য সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) একাডেমির মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন মিলনায়তনে আয়োজিত এই সাহিত্য সভায় লেখক,

পাঠক ও সাহিত্য অনুরাগীদের মিলনমেলা পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক আঙিনায়।

সভার শুরুতে মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী এবং জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের শহীদদের স্মরণে

এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সাহিত্য সভার মূল আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী সাহিত্যিকদের স্বরচিত কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম পাঠ।

প্রতিটি উপস্থাপনার পর উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর বিশ্লেষণ ও প্রতিফলন উঠে আসে, যা অনুষ্ঠানে যোগ করা ভিন্নমাত্রা।

সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বলেন, “চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি আজ নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আগামী প্রজন্মকে সাহিত্যপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা।

৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে, তা ছিল আমাদের সাহিত্যের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ভবিষ্যতের জন্য বড় পরিসরের কর্মপরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সিনিয়র সদস্য মাঈনুদ্দিন লিটন ভূঁইয়া। সভায় তিনজন খ্যাতিমান সাহিত্যিককে নিয়ে পৃথক পৃথক আলোচনায় তাঁদের সাহিত্যকর্ম ও অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়।

কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ও সৈয়দ আলী আহসানের জীবন ও সাহিত্যচর্চা নিয়ে আলোচনা করেন পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।

হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজীবন তুলে ধরেন পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক।

প্রয়াত সাংবাদিক-লেখক অজিত কুমার মুকুলের স্মরণে বক্তব্য রাখেন পরিচালক (গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশুসাহিত্য) আশিক বিন রহিম।

আলোচনার পাশাপাশি সাহিত্য পাঠে অংশ নেন নির্বাহী সদস্য সুমন কুমার দত্ত, আব্দুল গনি, ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, রাজিব কুমার দাস, পলাশ দে, ইমরান শাকির ইমরু, ইয়াসিন দেওয়ান, আবু ইউসুফ, সামিয়া মেহনাজ নুসরাত, মারিয়া ইসলাম অনুপমা, নীলপত্র পাটোয়ারী, মুহাম্মদ শাহিনসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন আশিক বিন রহিম। আলোচনায় যুক্ত ছিলেন নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার মুন্নি।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আদি বাংলার প্রকাশক ও সম্পাদক আরিফ রাসেল,

একাডেমির নির্বাহী সদস্য মুখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, কবির হোসেন মিজি, সাদ আল আমিন, মানিক দাস, তাফাজ্জল ইসলাম তাবু,

আরিফুল ইসলাম শান্ত, মুহাম্মদ হানিফ, এএম সাদ্দাম হোসেন, অনিক হোসেন, রবিউল হাসান, মো. তাইয়্যেবা হোসেন, মোবাশ্বেরা, রুপম কুমার দে, হাবিবুর রহমান, মো. আব্দুল কুদ্দুস, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. কাউছার আহমেদ, জিএম নাজিমুল ইসলামসহ আরও অনেক সাহিত্য অনুরাগী।

সাহিত্য সভার একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল “সেরা আড্ডারু পুরস্কার”। অংশগ্রহণ ও সাহিত্যের প্রাণবন্ত আলোচনায় সক্রিয় উপস্থিতির জন্য রাজিব কুমার দাস, নীলপত্র পাটোয়ারী এবং অনিক আহমেদকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কার স্পন্সর করেছে চাঁদপুর সাহিত্য পরিষদ।

এদিন আবু ইউসুফ সম্পাদিত কিশোর লিটল ম্যাগাজিন ‘কিশোর আনন্দ’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এছাড়া তিনি একাডেমির গ্রন্থাগারের জন্য উপহারস্বরূপ ১০টি লিটল ম্যাগ প্যাক হস্তান্তর করেন। একইভাবে লেখক হাবিবুর রহমান শুভ তাঁর রচিত বেশ কিছু বই একাডেমির লাইব্রেরির জন্য প্রদান করেন।

বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সাহিত্য সভায় প্রায় ৫০ জন কবি, লেখক ও পাঠক উপস্থিত ছিলেন। সাহিত্যচর্চার এমন প্রাণবন্ত আয়োজন চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *