চাঁদপুর সদর হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার আয়শার বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার আয়শার বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

উপজেলা সংবাদ সদর উপজেলা

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার আয়শার বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার আয়শার বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগস্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার আয়শার বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির এই নারী কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ও আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আয়শা আক্তার কমপক্ষে ১০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এর মধ্যে ২০ লাখ টাকার একটি পাওনা মামলাও দায়ের করা হয়েছে চাঁদপুর জেলা জজকোর্টে।

মামলাটি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান মিন্টু।

ভুক্তভোগীদের দাবী অনুযায়ী, আয়শা আক্তার হাসপাতালের বিভিন্ন স্টাফ ও হাসপাতালের আশেপাশের মানুষদের থেকে ধার এবং

প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় করে আসছেন। যেমন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের স্টাফ মাহবুবের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা,

হাসপাতালের সামনের তাকওয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী অরুনী দাসের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা,

হাসপাতালের আয়া আসমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং তার ভাগ্নি ভিক্ষুকের কাছ থেকে এক লাখ টাকার বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া আজাদ মেডিকেলের মোস্তফা কামালের কাছ থেকেও এক লাখ টাকা, তাকওয়া ডায়াগনস্টিকের পরিচালক মিজানুর রহমান মিন্টুর কাছ থেকে প্রায়

২০ লাখ টাকা এবং হাসপাতালের স্টাফ কবিরের কাছ থেকেও বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান মিন্টুর বক্তব্য

মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, “আয়শা প্রথমে আমাকে ভালো ব্যবহার দেখিয়ে আমার সমস্যার কথা শুনে ৩ লাখ টাকা নিয়েছিল।

আমার কাছে টাকা ছিল না, আমি তার কথায় বিশ্বাস করে সমিতি থেকে টাকা উত্তোলন করেছিলাম।

এভাবেই বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়েছে। আমি এখন খুবই সমস্যায় আছি।

হাসপাতালের আসিফ স্যার অনেকবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সে কাউকেই পাত্তা দেয়নি। অবশেষে বাধ্য হয়ে আমি মামলা করেছি।”

অন্যদিকে, হাসপাতালের আয়া আসমা জানালেন, “আয়শা আমার কাছ থেকেও টাকা নিয়েছে।

এমনকি আমার ভাগ্নি ভিক্ষা করে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, কিন্তু এখন টাকা ফেরত দিচ্ছে না।”

আজাদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মোস্তফা কামালও অভিযোগ করেন, “২০২১ সালে সে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়েছিল।

রোজার ঈদের আগে তার ভাই ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল, বাকী টাকা এখনো মেলেনি। পরে জানতে পারলাম, সে অনেকের কাছ থেকেও এভাবেই টাকা নিয়েছে।”

অভিযুক্ত আয়শা আক্তারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে বহুবার কল করা হলেও প্রথমে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কল পাওয়া গেলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর। একই সঙ্গে হাসপাতালের সততা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।

Daily Chandpur Sangbad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *