চাঁদপুরে মেঘনার পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে মেঘনার পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাত ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় নদীর পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পানি বৃদ্ধির ফলে হাইমচর উপজেলার চরভাঙ্গা, কৃষ্ণপুর, লামচরি, উত্তর চর ভৈরবী,
পাড়াবোগুলা ও জালিয়ার চরসহ একাধিক গ্রামের বেশ কিছু বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
কৃষিজমিগুলোতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়া স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এবারের পানি বৃদ্ধি ছিল হঠাৎ ও তুলনামূলকভাবে বেশি।
ফলে অনেকেই অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছেন। বিশেষ করে নিচু এলাকার মানুষজনকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
মেঘনার তীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের শঙ্কা, যদি পানি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে পান চাষ এবং মাছচাষসহ কৃষিনির্ভর জীবিকায় মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। জলমগ্ন হয়েছে বহু পুকুর ও চাষের জমি, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে স্থানীয় অর্থনীতিতে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল হক জানিয়েছেন, “গত দুই বছরে এটাই সবচেয়ে বেশি পানি বৃদ্ধি।
ইতোমধ্যে হাইমচরসহ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে আশা করছি, ভাটার সময় ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
এদিকে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেড এলাকাতেও শুক্রবার বিকেল নাগাদ জোয়ারের পানি বাড়তে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

