কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মতলব উত্তরে খাইট্টার জমজমাট বাজার
মতলব উত্তর প্রতিনিধি : কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মতলব উত্তরে খাইট্টার জমজমাট বাজার।
কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত গাছের গুঁড়ি বা খাইট্টার চাহিদা।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এখন খাইট্টা বিক্রির ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।
শেষ সময়ে এসে খাইট্টা বিক্রিতে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা।
তবে বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেচাবিক্রিতে কিছুটা ভাটা দেখা দিয়েছে।
গত ৪ জুন সরেজমিনে উপজেলার কালিপুর ও নিশ্চিন্তপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খাইট্টা বিক্রির দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতার আনাগোনা।
কোরবানির মাত্র দুইদিন বাকি থাকায় যেমন চলছে পশু কেনাবেচা, তেমনি পুরোদমে শুরু হয়েছে খাইট্টার বিক্রিও।
স’ মিলের কর্মচারীরা দিনরাত খেটে এই খাইট্টা তৈরি করছেন।
স’ মিল মালিকদের মতে, তেঁতুল কাঠের খাইট্টা মাংস কাটার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
এর কাঠ মজবুত ও টেকসই হওয়ায় কসাইসহ সাধারণ মানুষ এ ধরনের খাইট্টা ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।
বিভিন্ন অংশিজনের বক্তব্য
ছেংগারচর বাজারের খাইট্টা বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন আখন জানান, ঈদ সামনে রেখে অনেকেই খাইট্টা বিক্রির মৌসুমি ব্যবসায় নামেন।
আজকের দিনে বিক্রি তুলনামূলক ভালো হলেও, এখনও আগের মতো রমরমা অবস্থায় পৌঁছায়নি।
একই বাজারের আরেক বিক্রেতা মাঈনউদ্দিন বলেন, মাংস কাটার জন্য তেঁতুল কাঠের খাইট্টার বিকল্প নেই।
তিনি জানান, খাইট্টার দাম আকার অনুযায়ী ৩০০ থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বড় আকারের খাইট্টাগুলো সাধারণত পেশাদার কসাইরা নিয়ে থাকেন।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন, এবার খাইট্টার দাম অনেক বেড়েছে।
এক ক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, গত বছর যেখানে একটি খাইট্টা ২৫০-৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, এবার সেটি কিনতে হচ্ছে ৫০০-৭০০ টাকায়।
খাইট্টা কিনতে আসা ছেংগারচরের কসাই মুন্না বলেন, “আমি কোরবানির মাংস কাটার জন্য বাঞ্ছারামপুর যাচ্ছি, এজন্য ভালো মানের খাইট্টা দরকার। তেঁতুল কাঠের খাইট্টাই সবচেয়ে ভালো। অন্য গাছের কাঠে দা চালালে ছোট ছোট টুকরা উঠে মাংসে মিশে যায়, পরে তা পরিষ্কার করতে কষ্ট হয়।”
সারা বছর কসাইখানায় খাইট্টা ব্যবহৃত হলেও ঈদুল আজহা সামনে এলেই এর চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। কেবল পেশাদার কসাই নয়, সাধারণ মানুষও এই সময়টাতে খাইট্টা কেনার জন্য বাজারে ভিড় করেন।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সাধারণত স্থানীয় স’ মিল কিংবা মহাজনদের কাছ থেকে ছোট গুঁড়ি কাঠ কিনে তা নির্দিষ্ট মাপে কেটে খাইট্টা তৈরি করে বাজারজাত করেন। আম, জাম কিংবা তেঁতুল কাঠের খাইট্টা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, কারণ এগুলোর কাঠ মজবুত ও টেকসই।
এই খাইট্টাগুলো কোরবানির সময়ে যেমন অপরিহার্য, তেমনি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি একটি লাভজনক সুযোগ। শেষ সময়ে এসে বাড়ছে বিক্রি, তবে দাম ও সরবরাহের সামঞ্জস্য নিয়ে রয়েছে কিছু অসন্তোষ।

