কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে যত্রতত্র বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা সেক্টরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন আগে জমা দেওয়া আবেদনপত্রের রিসিভ কপি ছাড়া প্রায় কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই অনেক ক্লিনিকের হাতে।
স্থানীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্তাবলী সম্পর্কে তথ্যের অভাব থাকায় তারা সচেতন নন এবং এতে সাধারণ রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
পাশাপাশি, সরকারও রাজস্ব আদায়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অনেক ক্লিনিক রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট ৩৬টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব ক্লিনিকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন নার্সসহ প্রাসঙ্গিক জনবল থাকা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু অধিকাংশ ক্লিনিকে এসব শর্ত পূরণ হয়নি। ভুয়া পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করা হয়, যেখানে শুধুমাত্র ডাক্তারদের নাম ও সিল ব্যবহার করা হয় এবং প্রকৃত পরীক্ষাগুলো কম্পিউটার অপারেটর পরিচালনা করে।
প্রায় ৬০% রিপোর্ট কম্পিউটারে ফাইল আকারে তৈরি করা হয় এবং পরে প্রিন্ট করে রোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনেক ক্লিনিকে ডাক্তার শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকেন না, তবুও তাদের নামে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের ওপর নির্ভর করে এসব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসনের অগোচরে।
অধিকাংশ সেন্টারে প্যাথলজিস্ট, টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব থাকলেও বছরের পর বছর তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া গেছে, যেখানে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে স্থানান্তর করে কমিশন আদায় করে দালালচক্র।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যারা রোগীদের কাছে টানাটানি করে থাকে।
এতে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নানা ধরনের অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে।
অনেক ক্লিনিকের পরিচালক স্বীকার করেছেন যে, তারা স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন,
কিন্তু সঠিক অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে তারা ভুল স্বীকার করেছেন।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ সোহেল রানা জানান, উপজেলায় ৩৬টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, তবে অধিকাংশের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
ছাড়পত্রবিহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। জনবল সংকটের কারণে নজরদারি কম হলেও দ্রুত অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা সিভিল সার্জন বলেন, উপজেলার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে
এবং যাদের লাইসেন্স নেই বা নবায়ন হয়নি, তাদের দ্রুত লাইসেন্স সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা না মানলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

